জয়ের পর রত্না দেবনাথের হুঙ্কার, মমতা ও ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই! – এবেলা

জয়ের পর রত্না দেবনাথের হুঙ্কার, মমতা ও ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই পটপরিবর্তনের আবহে সবথেকে আলোচিত জয়টি এসেছে জলহাটি কেন্দ্র থেকে। আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের ডাক দিয়েছেন।

তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে রত্না দেবনাথ তাঁর জয়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করেছেন। ফল প্রকাশের পর তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “আমি মমতা ও তাঁর ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই। আমার মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এটি প্রথম ধাপ।” জলহাটিকে ‘ঘোষ পরিবারের থ্রেট কালচার’ থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, তৃণমূলকে তিনি গঙ্গার বদলে নর্দমায় উপড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন যাতে নদী দূষিত না হয়।

স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতি দমনে কঠোর বার্তা

বিধায়ক হিসেবে রত্না দেবনাথের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট। বিধানসভায় পা রেখেই তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের গভীরে থাকা দুর্নীতির শিকড় সন্ধানে নামবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, যে দুর্নীতির বলি হতে হয়েছিল তাঁর মেয়েকে, সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পুলিশমন্ত্রী পদে ছিলেন, তাই রত্না দেবনাথের এই মন্তব্য সরাসরি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নারী নিরাপত্তা

নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই রত্না দেবনাথের মূল হাতিয়ার ছিল নারী নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। জয়ের পর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের একটি নির্দেশিকাকে কটাক্ষ করে বলেন, “মহিলারা রাত ৮টার পর বাইরে বের হতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতি থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডের আবেগ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অব্যবস্থার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত জনরোষই রত্না দেবনাথের এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এই জয় বিজেপির জন্য এক বিশেষ নৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *