জলজীবন মিশনে কোটি কোটি টাকার নয়ছয়? মালদায় কড়া তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে ‘জলজীবন মিশন’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে মারাত্মক গাফিলতি ও আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য মালদা সফরে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে এই প্রকল্পে ১৫ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি।
কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকার সঠিক হিসেব না থাকা এবং ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনে জলজীবন মিশন সহ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একাধিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে জলজীবন মিশনের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখানে এ রাজ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।”
প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া টাকা বরাদ্দ এবং খরচের কোনো সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হিসেব মেলেনি। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “টাকা নয়ছয়ের ঘটনায় তদন্ত চলছে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দোষী ব্যক্তি যত বড়ই প্রভাবশালী হোন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
জেলা প্রশাসনিক ভবনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা। এছাড়া বিজেপির বিধায়কদের পাশাপাশি সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন এবং বিধায়ক মতিবুর রহমান ও নজরুল ইসলামও এই বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠক চলাকালীন মালদা জেলায় বিগত দিনের পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের হতাশাজনক পরিসংখ্যান দেখে বেজায় চটে যান মন্ত্রী। পরিস্থিতি দ্রুত শুধরাতে তিনি বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করেন। সেগুলি হলো—আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।
কাজের গতি বাড়াতে আপাতত ৩ মাসের ‘টার্গেট’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মালদা জেলার এমন ৭৯টি প্রকল্পে আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের ঘরে পানীয় জল না পৌঁছানো পর্যন্ত সরকার কোনো অবস্থাতেই ঠিকাদারদের অর্থ বা অনুদান ছাড়বে না।
প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য দপ্তরের কাজে যুক্ত ঠিকাদারদের সাথে পৃথক একটি আলোচনায় বসেন। সেখানে তিনি তাঁদের কাজের সুবিধা-অসুবিধা ও বর্তমান অগ্রগতির খোঁজখবর নেন। মন্ত্রী আশ্বাস দেন, নিয়ম মেনে এবং সততার সাথে যাঁরা সঠিক কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার।
