জাল নথি দিয়ে নেপাল যাওয়ার পথে খড়িবাড়িতে পাকড়াও ২ থাই তরুণী, জালিয়াত চক্রের খোঁজে পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারত-নেপাল সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ পারাপার রুখতে যখন কড়া নজরদারি চলছে, ঠিক তখনই খড়িবাড়ির জলট্যাঙ্কিতে ধরা পড়ল বড়সড় জালিয়াতি। জাল এক্সিট সিলমোহর ব্যবহার করে ভারত থেকে নেপালে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে থাইল্যান্ডের দুই নাগরিককে। চার চাকার গাড়ি চড়ে সীমান্ত পার হওয়ার সময় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) জওয়ানদের তৎপরতায় ফাঁস হয়ে যায় এই আন্তর্জাতিক চক্রের কারসাজি।
যেভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি
সীমান্তের জলট্যাঙ্কি চেকপোস্টে সাধারণ নিয়ম মেনেই ওই দুই থাই মহিলার নথিপত্র পরীক্ষা করছিলেন এসএসবি আধিকারিকরা। সেই সময় তাদের পাসপোর্টে থাকা অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) দফতরের এক্সিট সিলমোহর দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তড়িঘড়ি অভিবাসন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ওই দুই মহিলা সেখানে যানইনি এবং তাদের নথিতে কোনো বৈধ সিলমোহর দেওয়া হয়নি। জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হতেই দুজনকে আটক করে খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সক্রিয়তা ও প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে এসএসবি জানতে পেরেছে, সীমান্ত পারাপারের পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। ধৃতদের বহনকারী গাড়ির চালক নিজেই এই চক্রের অন্যতম প্রধান এজেন্ট। মূলত মোটা টাকার বিনিময়ে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়াই এই চক্রের কাজ। ভারত থেকে কোনো বিদেশি নাগরিক অন্য দেশে যেতে চাইলে অভিবাসন দফতরের নির্দিষ্ট সিলমোহর বাধ্যতামূলক, আর এই আইনি প্রক্রিয়াকে এড়াতেই তৈরি করা হয়েছিল হুবহু নকল সিলমোহর।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর নীতি (ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট) কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের হদিশ মেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে এবং সীমান্তে জড়িত অন্য চাঁইদের গ্রেপ্তার করতে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ।
