জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও, সেন্ট্রাল ফোর্সের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ ‘পুষ্পা’ বাহিনীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফলতা: গ্রেফতার হওয়া দাপুটে নেতাকে থানা থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) লাঠিচার্জ করতে হয়। আর জওয়ানদের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে শেষমেশ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে, সাঁতার কেটে পালালেন হামলাকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার একসময়ের ‘বেতাজ বাদশা’ তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর স্ত্রীর নেতৃত্বে আচমকাই ফলতা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা। মিছিল করে এসে একপ্রকার জোর করেই জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। থানার গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই বাধা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অ্যাকশনে কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ:
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকশনে নামে সেন্ট্রাল ফোর্স। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এলাকায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পালানোর রাস্তা না পেয়ে মারের হাত থেকে বাঁচতে বহু বিক্ষোভকারী সোজা নদীতে ঝাঁপ দেন। ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গিরের ‘পুষ্পা’ বাহিনীকে এভাবে সাঁতরে প্রাণ বাঁচাতে দেখে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ফের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজত:
এদিকে ৫ দিনের প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষে রবিবার জাহাঙ্গিরকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম (ACJM) আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আরও সময় চাইলে আদালত ফের তাঁকে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট থেকে আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। অবশেষে উত্তরবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাঁকে পাকড়াও করে। জমি দখল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পুলিশি ঘেরাটোপে কান ধরে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা গিয়েছে একদা এই দাপুটে নেতাকে।
