জুন থেকেই চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, কারা পাবেন এই নতুন সুবিধা! – এবেলা

জুন থেকেই চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, কারা পাবেন এই নতুন সুবিধা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করতে আগামী ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই জনমুখী প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তুলনায় এই নতুন প্রকল্পে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি আর্থিক ভাতা মিলবে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সরকার এই প্রকল্প চালুর মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কারা পাবেন এবং আবেদনের শর্তাবলি

প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নবান্ন বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা ও শর্ত আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রবীণ ও যোগ্য মহিলারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। ফলে তাঁদের নতুন করে আর আবেদন করতে হবে না। তবে নতুন যারা এই সুবিধার আওতায় আসতে চান, তাঁদের পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম হতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কোনো আবেদনকারীর নামে পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে তিনি এই ভাতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি, কোনো আবেদনকারী মারা গেলে বা বাংলাদেশের নাগরিক হলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

প্রয়োজনীয় নথি ও যাচাই প্রক্রিয়া

নতুন আবেদনকারীদের জন্য রাজ্য সরকার দ্রুত একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করবে, যার মাধ্যমে অনলাইনেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আবেদনের জন্য বৈধ রেশন কার্ড, আধার কার্ডের প্রতিলিপি, আয়ের শংসাপত্র (ইনকাম সার্টিফিকেট), বসবাসের প্রমাণপত্র এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে আধার সংযোগ বা লিঙ্ক থাকতে হবে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, জমাপ্রাপ্ত প্রতিটি আবেদনপত্র অত্যন্ত নিবিড়ভাবে স্ক্রুটিনি বা যাচাই করা হবে। সমস্ত শর্ত ও কারিগরি দিক ঠিক থাকলে তবেই মিলবে চূড়ান্ত অনুমোদন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *