“জেগে ঘুমোলে কী করা যাবে!” দিদিকে বিঁধে এবার চরম বেসুরো অনুব্রত, রাজনীতি ছাড়ার হুঁশিয়ারি! – এবেলা

“জেগে ঘুমোলে কী করা যাবে!” দিদিকে বিঁধে এবার চরম বেসুরো অনুব্রত, রাজনীতি ছাড়ার হুঁশিয়ারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বোলপুর: বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেন থামছেই না। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার ‘বেসুরো’ হওয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হলো বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর নাম! দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি ভোটকুশলী সংস্থার (আইপ্যাক) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। আর সেই সূত্রেই খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতেও ছাড়লেন না বীরভূমের এই ‘কেষ্ট’।

বৃহস্পতিবার ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুব্রত বলেন,

“কেউ যদি জেগে ঘুমায় কী করা যাবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষে কার পাল্লায় পড়লেন জানি না। আমার হাতে শেষদিকে ঘি খাননি মমতা!”

সেই সঙ্গেই দলে তাঁর অবস্থান নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “সম্মান পেলে দল করব, না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো।” তবে এখনই অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন।

অনুব্রত মণ্ডলের দাবি— ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৯-এর নির্বাচনে কোনো ভোটকুশলী সংস্থার ভূমিকা ছিল না, দল নিজের শক্তিতেই জিতেছিল। এবার তাদের ওপর অন্ধ ভরসা করার কারণেই এই বিপর্যয়। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মিসগাইড করল ওই সংস্থা। দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। পঞ্চায়েত, পুরসভা নির্বাচনে দলে পদ দেওয়ার নাম করে টাকা তুলেছে।”

সংগঠন ছেড়ে ভিনরাজ্যের পেশাদারদের ওপর ভরসা করাটা যে মস্ত ভুল ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে ক্ষুব্ধ কেষ্টর সংযোজন, “সংগঠনে দল চলে। একটা ইউপির (উত্তরপ্রদেশ) লোক, সে বীরভূমের মুরারইয়ের কথা কী করে বুঝবে? একটা বিহারের লোক, কী করে বুঝবে এখানে লাভপুরের ঘটনা?” সব মিলিয়ে ভোটের ফলের পর অনুব্রতর এই বিস্ফোরক মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *