জোড়াফুলে ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী রুখতে স্পিকারকে কড়া চিঠি অভিষেকের! – এবেলা

জোড়াফুলে ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী রুখতে স্পিকারকে কড়া চিঠি অভিষেকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোটের ফল প্রকাশের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সাংসদদের একটি অংশের আলাদা গোষ্ঠী তৈরির জল্পনা জোরালো হয়েছে। এই বিদ্রোহী শিবিরকে মান্যতা দেওয়া রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের বক্তব্য না শুনে যেন কোনওভাবেই এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। অভিষেকের এই চিঠি স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে জমা দেন দলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ।

চিঠিতে আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তি

স্পিকারকে দেওয়া ওই চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের ঐতিহাসিক রায় তুলে ধরেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী এখন আইনে দল ভাগের কোনও বৈধতা নেই, দলবিরোধী কাজ করলে তা পদ খারিজের যোগ্য অপরাধ। এছাড়া, ২০২৩ সালের ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল’ মামলার রায়ের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, সংসদীয় দলের চেয়ে মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী নতুন কোনও গোষ্ঠী তৈরি করতে গেলে ন্যূনতম ৩০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, যা ছাড়া মূল নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে সমান্তরাল গোষ্ঠী গড়ার কোনও এক্তিয়ার কারও নেই।

কড়া হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব

চিঠি জমা দেওয়ার পর সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ধরনের গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে তোপ দাগেন। মূলত লোকসভা নির্বাচনের পর দলের ভেতরে ফাটল বা দলত্যাগের যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তাকে আইনি পথে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতেই তৃণমূল নেতৃত্বের এই আগ্রাসী কৌশল। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই আগাম পদক্ষেপে বিদ্রোহী সাংসদদের পদ খারিজের সম্ভাবনা প্রবল হলো। এখন লোকসভার স্পিকার এই আইনি আপত্তির পর কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের অন্দরের এই সমীকরণের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *