জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন, শোরুমে শোরুমে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা! – এবেলা

জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন, শোরুমে শোরুমে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্ব বাজারে ক্রমাগত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার জেরে দেশের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রতি আগ্রহ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার শোরুমগুলিতে গত কয়েকদিনে গ্রাহকদের ভিড় এবং খোঁজখবর নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাড়ি শিল্পমহলের মতে, বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং শুক্রবার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার পর থেকেই ক্রেতাদের মানসিকতায় এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকট ও ইভি-র দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণে বড়সড় জট তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম। ভারতের বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবং পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানির খরচ কমাতে এবং বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র গভর্নরও দেশে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিই গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক গাড়ির শোরুমমুখী করে তুলেছে।

কলকাতার মহীন্দ্রা অ্যান্ড মহীন্দ্রার অন্যতম ডিলার শ্রী কেডিয়া গোষ্ঠীর ডিরেক্টর সৌরভ কেডিয়া জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়ির খোঁজখবর করার হার প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে দুই চাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও খোঁজখবর নেওয়ার হার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ হিরোর ম্যানেজিং পার্টনার সৌমিক ঘোষ। ডিলারদের সংগঠন ফাডা-র পূর্বাঞ্চলের দু-চাকার গাড়ি ব্যবসার কর্তা আদিত্য মোধাও হাওড়া-সহ বিভিন্ন শোরুমে এই ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, গাড়ি কেনা ও চালানোর খরচ, বাড়িতে সহজে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার কারণেই দেশজুড়ে এই চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

বিক্রি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

খোঁজখবর নেওয়ার হার যেভাবে বাড়ছে, বিক্রি ঠিক সেই অনুপাতে না বাড়লেও পূর্বের তুলনায় বিক্রি কিন্তু অনেকটাই চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। মূলত যাঁদের একাধিক গাড়ির প্রয়োজন কিংবা যাঁরা পুরনো তেলের গাড়ি বদলে নতুন গাড়ি নিতে চান, তাঁরাই এখন সরাসরি বৈদ্যুতিক গাড়িকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। গাড়ি বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতায় ব্যক্তিগত গাড়ি দৈনিক গড়ে ৩০-৪০ কিলোমিটার চললেও, মানুষ এখন শুধু তেলের দাম নয়, বরং তেলের আন্তর্জাতিক জোগান ও অনিশ্চয়তার কথা ভেবেই বিকল্প জ্বালানির দিকে পা বাড়াচ্ছেন।

গ্রাহকদের এই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশের অগ্রণী গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। টিভিএস মোটর, বজাজ অটো, এথার এনার্জি ও হিরো মোটোকর্প-সহ বিভিন্ন সংস্থা কারখানায় বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন বাড়াতে তৎপর হয়েছে। টাটা মোটরস যেমন চার্জিং পরিকাঠামোর নিয়মিত উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই মহীন্দ্রা গোষ্ঠীও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ও অপ্রচলিত শক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। শিল্পমহলের ধারণা, আগামী দিনে এই বিকল্প জ্বালানির বাজার আরও দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *