জ্বালানি বাজারে ব্রিকসের একাধিপত্য, সুযোগ নাকি কঠিন পরীক্ষা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 12, 20263:33 pm
১১টি সদস্য দেশ নিয়ে পুনর্গঠিত ব্রিকস (BRICS) জোট এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারের এক নতুন চালিকাশক্তি। বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিগুলো একই ছাতার নিচে আসায়, বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের প্রায় ৪১ থেকে ৪৭ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫০ শতাংশ রিজার্ভ এখন এই জোটের নিয়ন্ত্রণে। তবে জ্বালানি বাজারে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে এই শক্তিকে এক কঠিন কৌশলগত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ স্বার্থের সংঘাত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ওপেক প্লাসের (OPEC+) মতো সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় ব্রিকসের ভেতরেই বিপরীতমুখী জ্বালানি স্বার্থের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া, সৌদি আরব ও ইরানের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলো অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য ও বেশি রাজস্বের পক্ষে; অন্যদিকে ভারত ও চীনের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সস্তা ও স্থিতিশীল সরবরাহের দাবিদার। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট নীতি বা সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ছাড়া কেবল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে সংকটকালে বৈশ্বিক বাজারে একাধিপত্য বজায় রাখা সম্ভব নয়।
ভূ-রাজনীতি ও ক্রুড অয়েলের মূল্যবৃদ্ধি নতুন দিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন পশ্চিম এশিয়ার চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাব ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কেও দেখা গেছে, যা জোটের যৌথ ঘোষণাপত্র তৈরির কাজকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।
দিল্লি শীর্ষ সম্মেলন ও ভবিষ্যতের রূপরেখা জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এই জোটের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যেও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্বের নয়াদিল্লিতে একত্রিত হওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও ব্রিকস নেতারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত কৌশলগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
