টাকার অভাবে মিলল না অ্যাম্বুল্যান্স! ১ ঘণ্টা বিনাচিকিৎসায় পড়ে থেকে বনগাঁয় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বনগাঁ: অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় মিলল না অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। আর তার জেরেই এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ২১ বছরের এক তরতাজা যুবক। অমানবিক ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। বাড়ি বনগাঁর জয়পুর এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুদের সাথে ক্যাটারিংয়ের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন বিশ্বজিৎ। পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্বজিৎ ও তাঁর দুই বন্ধুকে বনগাঁর জেআর ধর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তিন জনকেই কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন।
মোবাইল, গাড়ির চাবি বন্ধক রাখতে চাইলেও গলল না মন:
অভিযোগ, আহতদের কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের লোকজন অ্যাম্বুল্যান্সের সাথে যোগাযোগ করলে চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করেন। আরজি কর যাওয়ার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় সেই মুহূর্তে অত টাকা জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিয়ে বিশ্বজিতের পরিজনেরা নিজেদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন এবং বাইকের চাবি পর্যন্ত জামানত বা বন্ধক হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও মন গলেনি চালকদের। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পুরো টাকা না দিলে গাড়ি নড়বে না।
১ ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে মৃত্যু:
টাকার জন্য এই টানাপোড়েন আর দর কষাকষিতেই কেটে যায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়। ছটফট করতে করতেই হাসপাতালে পড়ে থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বজিৎ। পরিবারের স্পষ্ট দাবি, অ্যাম্বুল্যান্সচালকদের চরম অমানবিকতা আর গাফিলতির কারণেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “টাকার অভাবে যদি একজন মুমূর্ষু রোগী পরিষেবা না পান, তবে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।”
এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর পরিজনেরা। হাসপাতাল চত্বরে দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসন যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের অ্যাম্বুল্যান্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কড়া পদক্ষেপ করে, সেই দাবিই তুলছেন সাধারণ মানুষ।
