টাকা ধার দেওয়ার আগে সাবধান, একটি ভুল কেড়ে নিতে পারে আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বন্ধু বা পরিচিতদের বিপদে টাকা ধার দেওয়া মানবিকতা হলেও লেনদেনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্বাসই যথেষ্ট নয়। আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রমিসরি নোট’ বা প্রতিশ্রুতিপত্র একটি অপরিহার্য আইনি দলিল। ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের আওতায় থাকা এই নথিটি মূলত ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার একটি লিখিত অঙ্গীকার। যথাযথ নিয়ম মেনে এই নোট তৈরি না করলে ভবিষ্যতে পাওনা টাকা আদায় করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
সঠিকভাবে প্রতিশ্রুতিপত্র লেখার নিয়ম
একটি আইনিভাবে শক্তিশালী প্রমিসরি নোট তৈরিতে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে নজর রাখা জরুরি। এতে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। ঋণের মূল পরিমাণ এবং পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত সুদের হার সেখানে উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া যে তারিখে টাকা লেনদেন হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে তা ফেরত দিতে হবে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকা চাই। আইনত এই দলিলে অবশ্যই একটি রাজস্ব স্ট্যাম্প থাকতে হবে এবং তার ওপর ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর ও অন্তত দুইজন সাক্ষীর সই থাকা বাঞ্ছনীয়।
নিরাপদ লেনদেনে আইনি সতর্কতা
প্রমিসরি নোটের ক্ষেত্রে টাকার কোনো সর্বোচ্চ সীমা না থাকলেও ২০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নগদে না করে ব্যাংকের মাধ্যমে করা আইনত নিরাপদ। ছোটখাটো কিছু ভুল যেমন—রাজস্ব স্ট্যাম্প না লাগানো, সুদের হার অস্পষ্ট রাখা কিংবা সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকা পুরো দলিলটিকে অকার্যকর করে দিতে পারে। সঠিক উপায়ে এই নথি সংরক্ষণ করলে পাওনাদার যেমন আইনি সুরক্ষা পান, তেমনি ঋণগ্রহীতার মধ্যেও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। তাই আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতা এড়াতে সঠিক নথিপত্র ব্যবহারের বিকল্প নেই।
এক ঝলকে
- প্রমিসরি নোট হলো টাকা ফেরতের একটি লিখিত আইনি অঙ্গীকার যা ১৮৮১ সালের আইন দ্বারা স্বীকৃত।
- দলিলে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, তারিখ এবং উভয় পক্ষের পূর্ণ ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক।
- বৈধতার জন্য রাজস্ব স্ট্যাম্পের ওপর ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর ও দুইজন সাক্ষীর সই থাকা আবশ্যক।
- ২০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে আইনি নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক মাধ্যম ব্যবহার করা শ্রেয়।
