টানা দু’বছরের স্বস্তির পর বড় ধাক্কা, ২০২৬ সালে তীব্র খরার আশঙ্কায় ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টানা দু’বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পর এবার ভারতের জলবায়ুতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬ সালে দেশজুড়ে তীব্র খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের মাত্র ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে ২০১৫ সালের পর এটাই হবে দেশের সবচেয়ে শুষ্ক ও ঘাটতিপূর্ণ বর্ষা। সাধারণ সময়ে যেখানে বর্ষা ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে মাত্র ১৬ শতাংশ, এবার তা একলাফে ৬০ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত।
আশঙ্কার মূলে এল নিনো ও বৈশ্বিক জলবায়ুর রূপবদল
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক খরা পরিস্থিতির মূল কারণ হল প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুগত পরিবর্তন বা ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ বদলে যাচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর ওপর। সাধারণত ভারত মহাসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প উপমহাদেশে বৃষ্টি ঘটায়, কিন্তু এল নিনোর প্রভাবে এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, বর্ষাকাল চলাকালীন এই এল নিনো পরিস্থিতি আরও জোরালো হতে পারে। শুধু ভারত নয়, অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো, চিনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-ও প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণকারী ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) এবার নিরপেক্ষ থাকায় কোনো অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় তৈরি হচ্ছে না।
কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক প্রভাব
উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ বাদ দিলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই এবার স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রধান বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমি বা ‘মনসুন কোর জোন’ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনোর প্রভাব চরমে পৌঁছালে ধান, ডাল ও তৈলবীজের মতো খরিফ ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষক এখনও সরাসরি বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ঘাটতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে। ফসলের উৎপাদন কমলে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যসংকট তৈরি করতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদদের একাংশ মনে করাচ্ছেন যে এল নিনো মানেই নিশ্চিত খরা নয়, কারণ বর্ষা একাধিক বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতি কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
