টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, ধসে বন্ধ টয়ট্রেন ও প্রধান সড়ক, তৈরি হচ্ছে বন্যার আশঙ্কা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টানা ভারী বর্ষণে উত্তরবঙ্গ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। পাহাড় ও সমতলে অবিরাম বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক ও বালাসনের মতো প্রধান নদীগুলি। পাহাড়ি রাস্তায় ধস নেমে এবং অস্থায়ী সেতু ভেঙে পড়ে ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত হয়েছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যার ফলে সমতল এলাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে হাসিমারার ভোলানালা চা-বাগানে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত শিশুর পরিবারকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা ও বিপর্যস্ত পর্যটন
টানা বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে বড়সড় ধস নেমেছে। এর ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন পরিষেবা। পাশাপাশি, কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার বিকল্প অস্থায়ী সেতুটি বালাসনের তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যাতে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় এবং বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে পাহাড়ের বিকল্প পথ হিসেবে রোহিণী সড়ক সচল থাকলেও, আবহাওয়া দফতরের লাল সতর্কতার জেরে সেখানেও নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ ও রুট পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
লাল সতর্কতা জারি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
আলিপুর ও সিকিম আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী অন্তত চার দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দার্জিলিং ও কালিম্পং-সহ বাকি জেলাগুলিতে জারি রয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। ভুটান ও সিকিম পাহাড়ে ঘন মেঘ জমে থাকায় ডুয়ার্সের নদীগুলিতে জলস্ফীতি ঘটে নতুন করে প্লাবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনগুলির তরফ থেকে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতার নবান্ন থেকে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে পুরো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে যাতে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো বড় বিপর্যয় এড়ানো যায় এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সমতলে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
