টিসিএসের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে চালের ব্যবসা! বছরে আয় ২৫ লক্ষ? নেটদুনিয়ায় ভাইরাল সাফল্যের গল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিরাপদ ও নিশ্চিত বেতনের করপোরেট চাকরি নাকি স্বাধীন কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ নিজস্ব ব্যবসা—কোনটি শ্রেয়? এই পুরনো বিতর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে নামী আইটি সংস্থা TCS-এর লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দিয়ে চালের ব্যবসা শুরু করেছিলেন এক যুবক। আর আজ তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা!
ভাইরাল পোস্টের হিসেব ও ব্যবসার মডেল
এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে অঙ্কিত পাণ্ডে নামের এক ব্যবহারকারী এই তথ্য সামনে এনেছেন। যদিও এই পরিসংখ্যানের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও এটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। পোস্ট অনুযায়ী ওই যুবকের ব্যবসার কৌশলটি ছিল এরকম:
- সরাসরি সংগ্রহ: কর্পোরেট ইঁদুরদৌড়ে না গিয়ে তিনি সরাসরি কৃষকদের থেকে চাল সংগ্রহ করা শুরু করেন। মাঝের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের পুরোপুরি সরিয়ে দেন তিনি।
- খরচ ও লাভের অঙ্ক: কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৩৫ টাকায় কিনে, প্রক্রিয়াকরণ (পরিষ্কার ও প্যাকেজিং) এবং পরিবহন বাবদ আরও ৫ টাকা খরচ করেন তিনি। অর্থাৎ প্রতি কেজির উৎপাদন খরচ পড়ে ৪০ টাকা।
- বাজারজাতকরণ: নিজের ব্র্যান্ডের নামে সেই চাল খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে ৫০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি করেন। এতে প্রতি কেজিতে তাঁর নিট লাভ থাকে ১০ টাকা।
- আয়ের হিসেব: বর্তমানে প্রায় ২০০টি খুচরো দোকানে চাল সরবরাহ করেন ওই যুবক। মাসে প্রায় ২০০ কুইন্টাল (২০,০০০ কেজি) চাল বিক্রির সুবাদে তাঁর বার্ষিক আয় গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকায়।
নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই সাফল্যের গল্প প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একপক্ষ মনে করছে, ছক ভাঙা সাহস ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে চাকরির চেয়ে ব্যবসায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ও সাফল্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ মহলের একাংশের সতর্কবার্তা—সোশ্যাল মিডিয়ার খাতার কলমের হিসেবের মতো বাস্তবে ব্যবসা চালানো অতটা সহজ নয়। কাঁচামালের দামের ওঠানামা, বাজার প্রতিযোগিতা এবং লোকসানের ঝুঁকি মাথায় রেখেই এগোতে হয়।
সব মিলিয়ে, তথাকথিত নিরাপদ চাকরির মোড়ক ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার এই গল্প বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
