ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও মিলছে না ভোটদানের অনুমতি, পশ্চিমবঙ্গবাসীকে হতাশ করল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য এখনই কোনো সুখবর নেই। ট্রাইব্যুনালে আবেদন বিচারাধীন থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকার দেওয়ার আর্জি সোমবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথে এ ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি জটিলতা

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে যে, নির্বাচন পরিচালনার বিশাল কর্মযজ্ঞের চাপে যেন মূল প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ভোটাধিকারের দাবিকে এই মুহূর্তে স্বীকৃতি দিলে ভোটার তালিকায় ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আদালত মনে করে, ভোটার তালিকায় থাকার অধিকার কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের আবেগও জড়িত। তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এই প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করা সমীচীন হবে না।

১৬ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ এবং ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা

শুনানি চলাকালীন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদনকারী তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও আদালত তাতে সম্মতি দেয়নি। বিচারপতিরা জানান:

  • আপিল প্রক্রিয়াকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।
  • ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা আদালতের উদ্দেশ্য নয়।
  • বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মামলা সামলাচ্ছেন, ফলে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে ভুলের সম্ভাবনা থেকে যায়।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও ভোটার তালিকার বর্তমান অবস্থা

ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দফার ভোটার তালিকা গত ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার তালিকা ৯ এপ্রিল ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর নতুন করে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে জটিল। অন্যদিকে, আবেদনকারীদের অভিযোগ যে ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে না। বিচারপতি বাগচী এই প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী আপিল কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন যাতে কেউ অন্যায়ভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

এক ঝলকে

  • আদালতের রায়: ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকার দিতে সুপ্রিম কোর্টের অস্বীকৃতি।
  • প্রধান পর্যবেক্ষণ: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ভোটার তালিকার স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত।
  • আবেদনকারীর সংখ্যা: প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষের নাম সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে বলে দাবি।
  • বর্তমান স্থিতি: ৬ ও ৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত (Freeze) করা হয়েছে।
  • উদ্বেগ: বিপুল পরিমাণ মামলার চাপে ট্রাইব্যুনালের কাজে ভুলের সম্ভাবনা ও কমিশনের অসহযোগিতার অভিযোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *