ট্রাম্পের মুখে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঙ্কার! আকাশছোঁয়া তেলের দামে অস্থির বিশ্ববাজার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার কূটনৈতিক অস্থিরতা এখন এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারি রাখার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অভিযান এখনই থামছে না। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভ্লাদিমির পুতিনের সতর্কবার্তা ও ট্রাম্পের পাল্টা চাল
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ইরান ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার ফল হবে বিধ্বংসী। তবে এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্প ইরানকে এক ‘শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় থাকা শূকরের’ সাথে তুলনা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রাখা অনেক বেশি কার্যকর এবং এটি ইরানকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে।
তেলের বাজারে ভয়াবহ ধস ও হরমুজ প্রণালীর সংকট
এই চরম উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ১১৯.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। অন্যদিকে, ইরান পালটা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি রুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ধস নামতে পারে।
মিত্রদের ওপর চাপ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ
ট্রাম্পের এই রণংদেহী মেজাজ থেকে বাদ পড়েনি তাঁর বন্ধু রাষ্ট্র জার্মানিও। হরমুজ প্রণালীতে সৈন্য পাঠাতে অস্বীকার করায় জার্মান চ্যান্সেলরের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তবে তেলের আকাশছোঁয়া দামের ফলে আমেরিকার অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষ এবং ট্রাম্প সমর্থকদের একটি অংশও এখন এই অহেতুক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে।
এক ঝলকে
- ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণায় তেলের দাম ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে।
- ইরানকে ‘শূকরের’ সাথে তুলনা করে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও পুতিনের যুদ্ধের সতর্কবার্তা।
- বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ববাজার।
- মিত্র দেশ জার্মানিকে ট্রাম্পের হুমকি ও দেশের অভ্যন্তরে তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।
