ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড় ধসের কবলে সেনসেক্স

ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড় ধসের কবলে সেনসেক্স

সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকির জেরে সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। দালাল স্ট্রিটে এক ধাক্কায় সেনসেক্স ১৬০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাজার পতনের বর্তমান চিত্র

সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক বা সেনসেক্স ১,৬১৩.০৯ পয়েন্ট কমে ৭৫,৯৩৭.১৬-তে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি ৪৬১ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২৩,৫৮৯.৬০-এ অবস্থান করছে। গত কার্যদিবসে এই সূচক দুটি যথাক্রমে ৭৭,৫৫০.২৫ এবং ২৪,০৫০.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। বাজারের এই নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায় যে ২,৪০৯টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং মাত্র ২৭৫টি শেয়ারের দাম সামান্য বেড়েছে।

পতনের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ পতনের পেছনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে:

  • তৈল সংকট ও ট্রাম্পের হুমকি: নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
  • ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।
  • ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
  • বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব: কেবল ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন জাপানের নিক্কেই (৫৩৯.১১ পয়েন্ট হ্রাস), হংকংয়ের হ্যাং সেং (২৬৬.৫৪ পয়েন্ট হ্রাস) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকেও বড় পতন লক্ষ করা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ও আশার আলো

বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা। গত ৯ এপ্রিল বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা ৬৭২.০৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। সমান্তরালভাবে দেশীয় লগ্নিকারীরাও ৪১০.০৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিশ্ববাজারের সামগ্রিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কবে নাগাদ সূচক ঊর্ধ্বমুখী হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

এক ঝলকে

  • সেনসেক্স কমেছে ১,৬১৩.০৯ পয়েন্ট (বর্তমান অবস্থান: ৭৫,৯৩৭.১৬)।
  • নিফটি কমেছে ৪৬১ পয়েন্ট (বর্তমান অবস্থান: ২৩,৫৮৯.৬০)।
  • ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
  • জাতীয় শেয়ার বাজারে ২,৪০৯টি শেয়ারের পতন হয়েছে।
  • জাপান, হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *