ডায়মন্ড হারবারে কি ফের ভোট? ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি, কমিশনের নির্দেশে তড়িঘড়ি ময়দানে বিশেষ পর্যবেক্ষক!

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। এই আবেদনের গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে এই পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিশনের বিশেষ নজরদারি ও মাঠপর্যায়ে তদন্ত
পুনর্নির্বাচনের এই দাবি মূলত লোকসভার হেভিওয়েট কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত বিধানসভা এলাকাগুলো থেকেই বেশি এসেছে। জানা গেছে, ফলতা বিধানসভার ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি, বজবজের ৩টি এবং মগরাহাট পূর্বের ১৩টি বুথে ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নির্দেশ পাওয়ার পরপরই বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সরাসরি ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছেছেন। স্ক্রুটিনির মাধ্যমে দেখা হবে বুথগুলোতে ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও প্রযুক্তিগত বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বড় ত্রুটি ছিল কি না।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অনিয়ম ও নিরাপত্তা
ফলতা বিধানসভা এলাকাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক তুঙ্গে। সেখানে ইভিএমে রহস্যজনক ‘টেপ’ লাগানো থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে পুলিশ পর্যবেক্ষকের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই সমস্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রভাব ভোট গণনার ওপর পড়তে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। যদি স্ক্রুটিনি রিপোর্টে বুথ দখল বা কারচুপির প্রমাণ মেলে, তবে এই ৭৭টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়বে।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে।
- বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে সরাসরি স্ক্রুটিনি তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
- অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, বজবজ ও মগরাহাট পূর্বের বুথগুলো।
- ইভিএম বিভ্রাট ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
