ডিইউ নির্বাচনে এবিভিপির ধামাকা জয়! খাতা না খুলে সাফ কংগ্রেস, নির্দলের বড় চমক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 20266:12 pm
সাম্প্রতিক নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখল আরএসএস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। প্রধান চারটির মধ্যে সভাপতিসহ ৩টি পদেই বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) কোনো পদেই খাতা খুলতে না পেরে চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। তবে ফলাফল সামনে আসতেই ভোটগণনায় ব্যাপক কারচুপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস শিবির।
কার দখলে কোন পদ? ভোটের ফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে এবিভিপির প্রার্থী যশ দাবাস ২৪,৫টে৭৬টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউআই-এর বিজয় শঙ্কর মিনাকে ২,০৫৩ ভোটে পরাজিত করেন।
- সভাপতি: যশ দাবাস (ABVP)
- সহ-সভাপতি: দীপাংশু শোকিন (নির্দল প্রার্থী — বিপুল ৩০,৬৩৪ ভোট পেয়ে বড় চমক)
- সম্পাদক: রিয়া ছাওড়ি (ABVP)
- যুগ্ম সম্পাদক: লক্ষ রাজ সিং (ABVP)
জয়ের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে এবিভিপি সভাপতি যশ দাবাস বলেন, “এই ফলাফল সম্প্রীতি, দেশপ্রেম এবং আমাদের ঐক্যের জয়। এনএসইউআই-কে ছাত্রসমাজ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।”
“প্রশাসন এবিভিপিকে জেতাতে কাজ করেছে”: তোপ NSUI-এর ফলাফল প্রকাশের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এনএসইউআই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তাদের দাবি, গণনা চলাকালীন লাগাতার কারচুপি করা হয়েছে। শুরুতে এগিয়ে থাকা এনএসইউআই প্রার্থীদের চক্রান্ত করে পিছিয়ে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা হারিয়ে এবিভিপির হয়ে কাজ করেছে এবং ভোটগণনার গতি কমিয়ে কারচুপি চালানো হয়েছে।
রেকর্ড ভোট ও রাজনীতির সমীকরণ রাজধানীতে সাম্প্রতিক নানা ইস্যু ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এই ছাত্র নির্বাচনকে বিধানসভা ও জাতীয় রাজনীতির একপ্রকার ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২টি কেন্দ্রে প্রায় ৪০.৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মোট ১,০০০টি ইভিএমের মাধ্যমে লড়াইয়ে ছিলেন ২০ জন প্রার্থী। তবে সব সমীকরণ বদলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ডিইউ ছাত্র সংসদের রাশ নিজেদের হাতেই রাখল এবিভিপি।
