ডিজিটাল ব্যবস্থায় একের পর এক গলদ, তীব্র বিতর্কের মুখে সিবিএসই – এবেলা
.jpg.webp?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার দাবি করলেও গত কয়েক মাসে একের পর এক প্রযুক্তিগত বিতর্কে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই। পরীক্ষার খাতায় কিউআর কোড স্ক্যান করে হঠাৎ বাজতে শুরু করা জনপ্রিয় গান থেকে শুরু করে ইতিহাসের প্রশ্নপত্রে সোশ্যাল মিডিয়া তারকার নাম জড়ানো, কিংবা ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র দেখতে গিয়ে ঝাপসা খাতা পাওয়ার মতো ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বোর্ড। ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিজ্ঞতা বলছে, সিবিএসই-র ডিজিটাল পরিকাঠামোয় এখনও অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে।
প্রথম বিতর্কের সূত্রপাত হয় দ্বাদশ শ্রেণির গণিত পরীক্ষাকে ঘিরে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, প্রশ্নপত্রের একটি কিউআর কোড স্ক্যান করলে তা জনপ্রিয় গায়ক রিক অ্যাস্টলির বিখ্যাত গানের লিঙ্কে নিয়ে যাচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ‘রিক রোল’ নামে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর কিছুদিন পরেই দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস পরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে যে, প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করলে তা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ওরির কনটেন্টে পৌঁছে দিচ্ছে। যদিও সিবিএসই জানায় যে, প্রশ্নপত্র কঠোর নিরাপত্তা বিধি মেনে তৈরি করা হয়েছে এবং পরীক্ষার মূল্যায়নে কোনও সমস্যা হয়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগের অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা
পরীক্ষার দিনের বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠলেও সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থা। সিবিএসই-র নিয়ম অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন বা নম্বর যাচাইয়ের আগে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বহু ছাত্রছাত্রী অভিযোগ করেছেন, তারা পোর্টালে ঝাপসা ছবি, আসাম্পূর্ণ উত্তরপত্র, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা বা ভুল বিষয়ের খাতা পেয়েছেন। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরেও দীর্ঘ সময় ধরে পোর্টালে উত্তরপত্র দেখতে পাননি।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে বোর্ডের মূল্যায়ন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আস্থার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল ও মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সামান্য ডিজিটাল গাফিলতিও হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের উপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি তার নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সিবিএসই-র কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
