ডিলিমিটেশন বিল: ডিএমকে-তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে বড় চাল কেন্দ্রের? – এবেলা

ডিলিমিটেশন বিল: ডিএমকে-তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে বড় চাল কেন্দ্রের? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ডিএমকে ও তৃণমূলের সাথে বোঝাপড়ায় ডিলিমিটেশন বিল পাসের পথে মোদী সরকার

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার পালাবদলের রেশ ধরে এবার কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি তাদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণে তৎপর হয়ে উঠেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল সংসদে পাস করানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে শাসক শিবির।

আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে পর্দার আড়ালে আলোচনা

কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে সমঝোতা। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর ডিএমকে এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, ডিএমকে ও তৃণমূলের মতো দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে বিলের পক্ষে আনার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কংগ্রেসের সাথে ডিএমকের সম্পর্কে ফাটল এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিজেপির জন্য এক বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার চ্যালেঞ্জ ও সরকারের কৌশল

আসন পুনর্বিন্যাস একটি সংবিধান সংশোধনী বিল হওয়ার কারণে লোকসভায় এটি পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই বড় বাধা অতিক্রম করতে সরকার দ্বিমুখী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে যেমন ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’র মাধ্যমে ইস্যুভিত্তিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দলের ভেতরে বিভাজন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদেরও পাশে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি এই সমীকরণ সফল হয়, তবেই সরকার বিলটি পরিমার্জন করে পুনরায় সংসদে পেশ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সব মিলিয়ে, ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় এখন নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *