ড্রাগন সীমান্ত পার! ভারতের শোরগোল

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের নয়া চাল: ‘সেনলিং’ প্রদেশ গঠন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ভারতের

বেইজিং, [আজকের তারিখ]: দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে চীন একতরফাভাবে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ শিনজিয়াং অঞ্চলে ‘সেনলিং’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক প্রদেশ ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের এই পদক্ষেপে ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এটি এক বছরের মধ্যে শিনজিয়াং প্রদেশে চীনের তৈরি তৃতীয় নতুন প্রশাসনিক বিভাগ।

‘সেনলিং’ প্রদেশের গুরুত্ব: ভৌগোলিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অংশ হিসেবে এই ‘সেনলিং’ প্রদেশ গঠিত হচ্ছে। এর ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত তাৎপর্য একে বিশেষ গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

  • কৌশলগত অবস্থান: নতুন এই প্রদেশের অবস্থান কারাকোরাম পর্বতমালার সন্নিকটে, যা আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডোর এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। এই ভৌগোলিক বিন্যাস চীনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
  • নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: বেইজিংয়ের দাবি অনুযায়ী, আফগান সীমান্ত দিয়ে উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশ রোধ করাই এই নতুন প্রদেশ গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়।
  • অর্থনৈতিক ও সংযোগ কেন্দ্র: ঐতিহাসিক কাশগড় শহর থেকে এই প্রদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এটি চীনকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। উল্লেখ্য, ৬০ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতেও এই অঞ্চলটি অবস্থিত।

ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

চীনের এই একতরফা প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘোষণায় ভারত সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বেইজিংয়ের এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।

ভারতের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো:

  • ভারতের ভূমি দখল: ভারত সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, চীন কর্তৃক ঘোষিত নতুন প্রদেশের একটি বড় অংশ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে সেখানে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করাকে অনধিকার প্রবেশ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
  • অতীতের বিতর্কিত পদক্ষেপ: এটিই প্রথম নয়। গত এক বছরে চীন ‘হেনান’ এবং ‘হেকং’ নামে আরও দুটি প্রদেশ গঠন করেছিল। এই প্রদেশগুলির কিছু অংশ আকসাই চিন মালভূমির অন্তর্গত, যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে চীন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের চীনের চাল

গত এক বছরে শিনজিয়াং অঞ্চলে তিনটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ তৈরি করে চীন তার আঞ্চলিক প্রভাব আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘সেনলিং’ প্রদেশের সঠিক মানচিত্র বা সীমানা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, সীমান্ত অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণকারী যে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত বরদাস্ত করা হবে না। আন্তর্জাতিক মহলেও চীনের এই বিতর্কিত মানচিত্র নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক ঝলকে

  • চীন শিনজিয়াং অঞ্চলে ‘সেনলিং’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক প্রদেশ ঘোষণা করেছে।
  • এই প্রদেশটি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডোর সীমান্তে অবস্থিত।
  • এক বছরের মধ্যে এটি শিনজিয়াং-এ চীনের অন্তর্ভুক্ত তৃতীয় নতুন প্রশাসনিক বিভাগ।
  • ভারত এই পদক্ষেপকে লাদাখের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগতভাবে এটি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এর সুরক্ষা ও প্রসারের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *