তরমুজ কি প্রাণঘাতী হতে পারে? মুম্বাইয়ের মর্মান্তিক ঘটনা ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ মুম্বাইয়ের জেজে মার্গ এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ২৫শে এপ্রিল রাতে নৈশভোজে চিকেন পোলাও খাওয়ার পর ডেজার্ট হিসেবে তরমুজ খেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপরই শুরু হয় তীব্র বমি ও মাথাব্যথা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই কিশোরী কন্যার মৃত্যু হলেও, ওই রাতে আমন্ত্রিত যে অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন তারা সুস্থ আছেন। প্রাথমিক তদন্তে এই প্রাণহানির পেছনে তরমুজ থেকে হওয়া বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
অদৃশ্য বিষ ও ব্যাকটেরিয়ার হানা
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ নিজে বিষাক্ত নয় বরং বাহ্যিক দূষণই একে মারাত্মক করে তোলে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ফলকে দ্রুত পাকাতে কার্বাইড এবং টকটকে লাল দেখাতে ক্ষতিকর ‘এরিথ্রোসিন’ রঞ্জক ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে। এই রাসায়নিকগুলো সরাসরি মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করতে পারে। এছাড়া মাটিতে জন্মানোর কারণে তরমুজের খোসায় সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়া থাকে। ফল কাটার আগে ভালোভাবে না ধুলে এই জীবাণু ভেতরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় থাকলে তা বংশবৃদ্ধি করে তীব্র ফুড পয়েন্টজনিং তৈরি করে।
শারীরিক জটিলতা ও সচেতনতা
রাসায়নিক ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় তরমুজ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ফলে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী হলেও কিডনি রোগীদের জন্য ‘হাইপারক্যালেমিয়া’ বা রক্তে পটাশিয়ামের আধিক্য ঘটাতে পারে। এর ফলে হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া বিরল ক্ষেত্রে তীব্র অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন থেকেও শ্বাসকষ্ট বা মৃত্যু হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক লাল রঙ, টক গন্ধ বা আঠালো গঠন দেখলে সেই তরমুজ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এক ঝলকে
- মুম্বাইয়ের একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর জন্য প্রাথমিকভাবে তরমুজ থেকে হওয়া বিষক্রিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
- তরমুজে মেশানো কৃত্রিম লাল রঙ (এরিথ্রোসিন) ও কার্বাইড অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।
- ফল কাটার আগে খোসা না ধোয়া এবং দীর্ঘ সময় বাইরে কেটে রাখা তরমুজে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।
- কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরমুজে থাকা অতিরিক্ত পটাশিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
