তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে এল বিপুল অর্থ, দৃশ্য দেখে হতবাক পুলিশ!

নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালে বর্ধমানে উদ্ধার বিপুল নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ২
বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে জারি রয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান রেল স্টেশনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ (জিআরপি)। উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। বড় অংকের এই নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তল্লাশি অভিযান
বুধবার দুপুরে বর্ধমান জিআরপি থানার ওসি সুজন ঘোষের নেতৃত্বে স্টেশনে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি চলছিল। ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজে দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তাদের আচরণে অসংলগ্নতা থাকায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা লাগেজ ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়ায় ধৃতরা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম অয়াধেশ কুমার এবং সুনীল কুমার। তাঁদের বাড়ি বিহারের সমস্তিপুর জেলায়। ব্যাগে থাকা টাকার উৎস বা কোনো প্রকার বৈধ নথি তাঁরা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপরই পুলিশ টাকাগুলো বাজেয়াপ্ত করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নগদ ৩৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। বুধবারই ধৃতদের বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়েছে।
নির্বাচনী আবহে নিরাপত্তার কড়াকড়ি
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশাবলিতে কাজ করছে প্রশাসন। বেআইনি লেনদেন আটকাতে রাজ্যজুড়ে নাকা তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়মিত বিরতিতে বিপুল অংকের নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য বা কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশে এই অর্থ পরিবহন করা হতে পারে। জিআরপি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে।
এক ঝলকে
স্থান: বর্ধমান রেল স্টেশন।
উদ্ধারকৃত অর্থ: ৩৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত: অয়াধেশ কুমার ও সুনীল কুমার (বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা)।
অভিযোগ: নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ ও বৈধ নথি ছাড়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন।
পদক্ষেপ: অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশি তদন্ত শুরু এবং আদালত পেশ।
