তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, সায়নীর বিদায়ে যুব সংগঠনের দায়িত্বে এবার অর্ণব! – এবেলা

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, সায়নীর বিদায়ে যুব সংগঠনের দায়িত্বে এবার অর্ণব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভরাডুবির পর থেকেই চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের মাঝেই এবার দলের যুবনেত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সায়নী ঘোষ। তাঁর শূন্যস্থানে তৃণমূলের যুব সংগঠনের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অর্ণব। একসময়ের দাপুটে শাসকদলের অন্দরে এই রদবদল ও শীর্ষ নেতাদের মোহভঙ্গ রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিদ্রোহের সুর ও সায়নীর অন্তর্ধান

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন সায়নী ঘোষ। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁকে আর সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না। দলীয় সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি আক্ষেপ করে মন্তব্য করেছেন যে ওই দলে আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। সম্প্রতি দিল্লি থেকে ফেরার পথে তাঁকে মাস্ক ও টুপিতে মুখ ঢেকে থাকতে দেখা যায়, যা নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করেছেন। কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, দলের কাছে সায়নীর কোনও আনুষ্ঠানিক ইস্তফাপত্র পৌঁছায়নি, তবে সংগঠনের কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই যুব সভাপতির দায়িত্ব অর্ণবকে দেওয়া হয়েছে।

মানস ভুঁইয়ার ইস্তফা ও ক্রমেই দুর্বল ঘাসফুল শিবির

সায়নীর বিদ্রোহের মাঝেই দল ছেড়েছেন প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভূঁইয়া। সবং কেন্দ্রে নিজের পরাজয়ের দায় পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলত্যাগ করেছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। একই জেলার সন্তান হিসেবে শুভেন্দুর সাফল্যে গর্ববোধ করার কথা জানানোর পাশাপাশি, সবংয়ের বর্তমান সন্ত্রাস পরিস্থিতি নিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

বিধানসভা নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলের অন্তর্কলহ ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন। এই ধারাবাহিক দলত্যাগের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। রাজ্যসভার পর এবার লোকসভাতেও দলের অস্তিত্ব গভীর সংকটে। ইতিমধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, দেব-সহ দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। এর সুস্পষ্ট প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও তৃণমূল কংগ্রেসের চূড়ান্ত পতন ও রাজনৈতিক অস্তিত্বহীনতার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *