তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, দিল্লিতে বিজেপির দরবারে সায়নী-কাকলিরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পরেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার বিকেলে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের একঝাঁক বিদ্রোহী সাংসদ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও। বিরোধী সাংসদদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
২২ সাংসদ নিয়ে নয়া গোষ্ঠীর দাবি
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, বর্তমানে ২২ জন তৃণমূল সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সোমবার তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানাবেন। এই সাংসদদের লক্ষ্য কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করা। অন্যদিকে, দিল্লিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন লুকে দেখা যায় সায়নী ঘোষকে। শিবির বদল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, যা জবাব দেওয়ার তিনি তাঁর সংসদীয় এলাকার মানুষকেই দেবেন।
ভাঙনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদল এবং বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ই তৃণমূলের অন্দরে এই ব্যাপক ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ। রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সুরক্ষিত করার তাগিদেই এই বিদ্রোহের সূত্রপাত। এই দলবদলের জেরে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রবল চাপের মুখে পড়তে চলেছে। লোকসভার অধ্যক্ষ যদি এই ২২ জন সাংসদকে পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি দেন, তবে তা কেন্দ্রে শাসক দল এনডিএ-র শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে এবং সংসদে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভিত্তি কার্যত ধূলিসাৎ করে দেবে।
