তিন বছরের প্রেমে চরম বিষাদ! পরকীয়ার পথে কাঁটা সরাতেই কি স্বামীকে খুন?

তিন বছরের প্রেমে চরম বিষাদ! পরকীয়ার পথে কাঁটা সরাতেই কি স্বামীকে খুন?

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ এলাকায় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সমগ্র এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিন বছর আগে ভালোবেসে ঘর বাঁধা বিশাল ও কশিশের দাম্পত্য জীবন শেষ পর্যন্ত পর্যবসিত হলো একটি মর্মান্তিক খুনের মামলায়। এই ঘটনার মূলে পরকীয়া প্রেম এবং সেই পথের বাধা দূর করার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা উঠে এসেছে।

ভালোবাসার বিয়ে ও তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ

মৃত যুবক বিশাল সিঙ্ঘল ওরফে বিশু ছিলেন দেরাদুনের বাসিন্দা। তিন বছর আগে তিনি দেওবন্দের তরুণী কশিশকে প্রেম করে বিয়ে করেন। তবে সুখের সেই সংসারে ফাটল ধরে যখন কশিশ স্থানীয় যুবক মণীশ ওরফে গোলার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এই অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরম আকার ধারণ করেছিল বলে জানা গেছে।

পরকীয়া হাতেনাতে ধরা ও নৃশংস আক্রমণ

গত ২ জুলাই ঘটনার চূড়ান্ত রূপ নেয়। বিশালের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন বিশাল তাঁর স্ত্রী কশিশকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। প্রতিবাদ করায় তিনি স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে আক্রান্ত হন। অভিযোগ উঠেছে যে, কশিশ এবং তাঁর প্রেমিক মণীশ মিলে বিশালকে মারধর করার পর জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ৩ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের তদন্ত ও পলাতক অভিযুক্ত

বিশালের দুই বোন দেওবন্দ কোতোয়ালি থানায় কশিশ ও মণীশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে যে, খুনের ঘটনার পেছনে পরকীয়ার যোগসূত্র অত্যন্ত জোরালো। অভিযুক্ত স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক বর্তমানে পলাতক। সাহারানপুর জেলা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ও সামাজিক প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা সরাতে স্বামী বা স্ত্রীকে খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্দোরের সোনম রঘুবংশীর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেওবন্দের এই ঘটনা সমাজবিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। আবেগতাড়িত সম্পর্কের স্থায়িত্ব এবং এর করুণ পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

এক ঝলকে

  • তিন বছর আগে দেরাদুনের বিশালের সঙ্গে কশিশের প্রেম করে বিয়ে হয়।
  • পরকীয়া দেখে ফেলায় ২ জুলাই বিশালের ওপর আক্রমণ ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ।
  • ৩ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশালের মৃত্যু হয়।
  • অভিযুক্ত স্ত্রী কশিশ ও প্রেমিক মণীশ পলাতক, পুলিশের চিরুনি তল্লাশি জারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *