তিন সন্তানের মায়া কাটিয়ে প্রেমিকের হাত ধরলেন নারী, আদালতের নজিরবিহীন রায়ে স্তম্ভিত স্বামী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আট বছরের সংসার এবং তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেন মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের এক নারী। স্বামীর করা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ আবেদনের শুনানি চলাকালীন আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে ওই নারী সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি আর স্বামীর কাছে ফিরতে চান না। বরং যে কঠিন সময়ে প্রেমিক তাঁকে মানসিক সমর্থন জুগিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ
গোয়ালিয়র হাইকোর্ট নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর রায় প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ সঙ্গী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার রাখেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, ওই নারীর এই সাহসী সিদ্ধান্তকে তাঁর নিজের বাবা-মায়ের পাশাপাশি প্রেমিকের মা-ও সানন্দে সমর্থন জানিয়েছেন। এই সমর্থন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও আইনি নির্দেশনা
আদালত শুধুমাত্র নারীর অধিকারই নয়, বরং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রেখেছে। রায়ে বলা হয়েছে, তিনটি সন্তানের অভিভাবকত্ব মায়ের কাছেই থাকবে। এছাড়া ওই নারীর সমস্ত গয়না এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তাঁকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারকরা একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওই নারীকে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতে হবে। বিচ্ছেদ কার্যকর হলে তিনি নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো স্থানে বসবাস করতে পারবেন।
এই রায়ের ফলে নারীর অধিকার এবং সামাজিক প্রথার চিরাচরিত দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন ও মানবতার মেলবন্ধনে দেওয়া এই রায় আগামী দিনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারিবারিক সম্পর্কের আইনি লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ৮ বছরের বিবাহিত সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রেমিকের সঙ্গে থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ৩ সন্তানের জননী।
- স্বামীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গোয়ালিয়র হাইকোর্ট নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
- তিন সন্তানের অভিভাবকত্ব মায়ের হাতে রাখার পাশাপাশি তাঁর সব গয়না ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
- আইনি বিচ্ছেদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই নারীকে বাবা-মায়ের আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
