তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের! ‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইলে তবেই সরকার গড়ার কথা ভাবব’

তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের! ‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইলে তবেই সরকার গড়ার কথা ভাবব’

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। সরকার গঠনে তাঁর দল এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করার পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। শাসক দল তাঁর সমর্থন চাইলে কী শর্ত দেবেন, তা নিয়ে এদিন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।

‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে’

তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের প্রশ্ন উঠতেই চরম উদ্ধত মেজাজে ধরা দেন হুমায়ুন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূল ডাকলে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই, বরং তাঁদেরই তাঁর কাছে আসতে হবে। হুমায়ুনের কথায়, “আমার কাছে আসবে, এসে হাঁটু গেড়ে বলবে যা করেছি ভুল করেছি ক্ষমা করো। মানুষের স্বার্থে, কান ধরে যদি দু’বার ওঠবস করে বলে যা করেছি ভুল করেছি তখন ভাবব।” এই মন্তব্যে কার্যত শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন এই বিতর্কিত নেতা।

নির্ণায়ক ভূমিকার দাবি

ভোটের পর যদি কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় (ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি), তবে ছোট দল বা নির্দল প্রার্থীদের গুরুত্ব যে অনেকটা বাড়বে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, সরকার গড়ার চাবিকাঠি তাঁর হাতেই থাকবে। তৃণমূলের প্রতি তাঁর এই ক্ষোভ পুরনো দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অতীতে একাধিকবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

চাপের মুখে ঘাসফুল শিবির?

৪ মে ফল প্রকাশের আগে হুমায়ুনের এই ‘শর্ত’ তৃণমূলের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই যদি খুব কাছাকাছি হয়, তবে হুমায়ুনের মতো নেতাদের সমর্থন পাওয়া যে কোনও শিবিরের জন্যই অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

উত্তেজনা তুঙ্গে

কালীঘাট থেকে শুরু করে জেলা স্তর—৪ মে-র মেগা লড়াইয়ের আগে হুমায়ুনের এই মন্তব্য যেন বারুদে অগ্নিসংযোগের কাজ করল। সোমবার ইভিএম খোলার পর জনতা জনার্দন কাকে ‘কিং মেকার’ হিসেবে বেছে নেয় এবং হুমায়ুনের এই শর্ত শেষ পর্যন্ত কাজে লাগে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *