তৃণমূলের টিকিটের চাবিকাঠি এবার আমজনতার হাতেই! কড়া বার্তা অভিষেকের

তৃণমূলের টিকিটের চাবিকাঠি এবার আমজনতার হাতেই! কড়া বার্তা অভিষেকের

নির্বাচনী প্রচারে জনসেবাকেই পাখির চোখ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ক হওয়ার পর যারা এলাকায় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হবেন এবং যাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থাকবে, তারা আগামী নির্বাচনে দলের টিকিট পাবেন না। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই একই মডেল কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

মানুষের রায়ই চূড়ান্ত

জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে অভিষেক বলেন যে, কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন। দলের যে কোনও স্তরের নেতা বা বিধায়ক হোক না কেন, প্রার্থীপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে জনমতই হবে শেষ কথা। ভোটাররা যদি কোনও নেতার কাজে বীতশ্রদ্ধ হন, তবে সেই দায়ভার দল নেবে না। এই কড়া বার্তার মাধ্যমে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ মূলত জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি করে এলাকাভিত্তিক দায়বদ্ধতা ও পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

উন্নয়ন ও জবাবদিহিতার রাজনীতি

পূর্বস্থলী উত্তরের জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের রূপরেখা পেশ করেন অভিষেক। ভাগীরথীর নদী ভাঙন রোধে রাজ্য সরকারের ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভোট মিটলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি পেশাদারিত্ব ও এলাকায় উপস্থিত থাকার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন নেতাদের ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে তৃণমূল স্তরে দলের সংগঠন ও জনসমর্থন আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • পরিষেবায় গাফিলতি হলে বা জনক্ষোভ থাকলে তৃণমূল বিধায়করা আর টিকিট পাবেন না।
  • আগামী বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণে মানুষের রায়ই হবে প্রধান মাপকাঠি।
  • জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে অন্তত চার দিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় থাকা বাধ্যতামূলক করার ইঙ্গিত।
  • ভাগীরথীর ভাঙন রোধে ৯ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রতিশ্রুতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *