তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে বেআইনি টাকার পাহাড়! তদন্তের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্রোহী বিধায়কেরা – এবেলা

তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে বেআইনি টাকার পাহাড়! তদন্তের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্রোহী বিধায়কেরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ এবার প্রকাশ্য আর্থিক কেলেঙ্কারির রূপ নিল। দলেরই এক বিদ্রোহী বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অর্থ জমা রয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযোগকারী বিধায়ক মূলত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সদস্য এবং আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। এই ঘটনার জেরে শাসক দলের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটল ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গভীর রহস্য সামনে চলে এসেছে।

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আর্জি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলীয় অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার অনুরোধ জানান। গত ৫ জুনের সাংগঠনিক রদবদলে তাঁর জায়গায় শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হলেও, ব্যাঙ্কের খাতায় এখনও অরূপ বিশ্বাসই সিগনেটরি হিসেবে রয়েছেন। দল কার্যত ভেঙে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এই বিশাল আর্থিক লেনদেনের দায় নিজের ঘাড়ে নিতে চাননি তিনি। এর পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক দলীয় বিধায়ক ওই ব্যাঙ্কের তিনটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

গোয়া কানেকশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে শীর্ষ নেতৃত্ব

নির্বাচন কমিশনে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি অ্যাকাউন্টের একটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে এবং বাকি দু’টি যথাক্রমে দলের ত্রিপুরা ও গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত। মূলত গোয়া শাখার অ্যাকাউন্টটি নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনও না পেয়েও তৃণমূল খরচ করেছিল প্রায় ৪৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা, যেখানে জয়ী বিজেপি খরচ করেছিল মাত্র ১৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। গোয়ায় ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে কয়লা পাচারের বিপুল টাকা ঢোকার অভিযোগ এনেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার এবং প্রতীক জৈনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার তাগিদই নেতাদের এভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মূল কারণ। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। গোয়া এবং ত্রিপুরা শাখার এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির সূত্র ধরে তদন্ত এগোলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের তদন্তকারী সংস্থার কঠোর নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারেন, যা দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *