তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর অবশেষে রাজপথে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/03/abhishek-banerjee-2026-05-03-07-59-11.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর কার্যত ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে অবশেষে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই শনিবার থেকে মাঠে নামছেন তিনি। প্রথম দিনই তাঁর সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে তিনি সরাসরি দেখা করবেন।
নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন কার্যালয়ে দলীয় বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় স্তরের কিছু ইস্যুতে সরব হওয়া ছাড়া তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে বড় কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই অভিষেকের রাজপথে না নামা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, শনিবার নিজের প্রথম কর্মসূচিতেই সেই বেলেঘাটায় যাচ্ছেন অভিষেক।
দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও ডায়মন্ড হারবার মডেলের সংকট
নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শান্তনু সেনের মতো একাধিক প্রবীণ ও ক্ষুব্ধ নেতার তালিকায় এমন অনেকেই যুক্ত হয়েছেন, যাঁরা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে ‘অভিষেক-ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনেকেই এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি অভিষেক এবং দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে দায়ী করছেন। এর পাশাপাশি, ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূল চতুর্থ স্থানে নেমে আসায় অভিষেকের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি দলের অন্দরেও এখন এই মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা চলছে। এমতাবস্থায় এই কর্মসূচির মাধ্যমে অভিষেক বিক্ষুব্ধদের কোনো কড়া বার্তা দেন কি না, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
নিরাপত্তা হ্রাস ও নতুন চ্যালেঞ্জ
এই রাজনৈতিক কর্মসূচির পেছনে আরও একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন রয়েছে। এতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড প্লাস (Z+) স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে রাজ্যের নতুন সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে তাঁর নিরাপত্তা কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, এখন থেকে তিনি সেটুকুই পাবেন। নিরাপত্তা বলয় সংকুচিত হওয়ার পর কালীঘাটের বাইরে এটিই তাঁর প্রথম বড় সফর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে অভিষেক একদিকে যেমন আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে দলে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে দলের ভেতরের কোন্দল ও ক্ষোভ প্রশমন করার এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। ভোটের পর প্রথম এই কর্মসূচি থেকে তিনি দলের কর্মী ও বিক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দেন, এখন রাজনৈতিক মহলের নজর সেদিকেই।
