তৃণমূলে তীব্র বিদ্রোহ, মমতা ও অভিষেকের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি বিধায়কদের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার নজিরবিহীন ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক সিদ্ধান্তে মনোনীত বিরোধী দলনেতার পদ বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলেরই অধিকাংশ বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ১৫ বছর ধরে কালীঘাটের যে একচ্ছত্র নির্দেশ দলের শেষ কথা বলে গণ্য হতো, ছাব্বিশের ভোটের ফল প্রকাশের পর তা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে এখন ‘আমরাই আসল তৃণমূল’ স্লোগান তোলার প্রস্তুতি চলছে।
কালীঘাটের বৈঠকে চরম অনুপস্থিতি এবং ফাটল
সম্প্রতি কালীঘাটে শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। বাকি ৬০ জন বিধায়কের এই অনুপস্থিতি দলের গভীর ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছিলেন মমতা ও অভিষেক। একই সঙ্গে ডেপুটি লিডার এবং মুখ্য সচেতকের নামও চূড়ান্ত করা হয়। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনের এই দুঃসময়েও যাঁরা নিজেদের আসন বাঁচিয়ে জিতে এসেছেন, তাঁদের মতে দলে কর্পোরেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই বিদ্রোহের জেরে বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতেই স্পিকারের কাছে বিকল্প বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করতে পারেন বিক্ষুব্ধ ৬০ জন বিধায়ক। দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত। যদি বিধায়করা সত্যিই তাঁদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে তা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কর্তৃত্বের ওপর এক বিরাট ধাক্কা হবে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
