তৃণমূলে বেনজির ভাঙন, বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন স্পষ্ট হতেই এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলবদলু ও বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধিদের কড়া ভাষায় ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অ্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় ও রাজ্যের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
দিল্লির দরবারে বিদ্রোহ এবং মহুয়ার চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের মেঘ দানা বাঁধছিল। সেই জল্পনা সত্যি করে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সদস্য স্পিকার ওম বিড়লাকে এনডিএতে যোগ দেওয়ার বার্তা পাঠিয়েছেন। ফলে দলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এখন হাতছাড়া হওয়ার মুখে। এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ করে মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ২০২৪ সালে এরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিল। লোভী, স্বার্থপর ও বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমতা থাকলে আগে সাংসদ পদ ছেড়ে পুনরায় বিজেপির টিকিটে লড়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করা উচিত। একইসঙ্গে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে লক্ষ্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহ ডেকেছেন বলেই কেন তিনি দিল্লি যাচ্ছেন? ভারতের হয়ে খেলা একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণে কিছুটা লজ্জা ও সাহস দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন মহুয়া।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বড় অংশের বিধায়ক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী তৈরি করার পর থেকেই এই ভাঙনের সূত্রপাত। রবি ও সোমবার দফায় দফায় দিল্লির গোপন ডেরা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহীদের বৈঠক এই ভাঙন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০ জন সাংসদের এই আকস্মিক দলবদল কেবল তৃণমূলের সংসদীয় শক্তিকেই খর্ব করবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও ভাবমূর্তিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে। ইউসুফ পাঠানের মতো হাইপ্রোফাইল মুখকে নিয়ে মহুয়ার এই সংশয় আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
