তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের সব সুরক্ষা প্রত্যাহার করল হাইকোর্ট, গ্রেপ্তারে আর কোনো বাধা নেই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর খানকে দেওয়া সমস্ত আইনি সুরক্ষা তুলে নিল কলকাতা উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার এক তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, গত ১৮ মে জাহাঙ্গীরকে যে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল, তাও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আদালতের এই কড়া পদক্ষেপের পর আইনি ও রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত—ফলতার স্বঘোষিত ‘পুশপা’ হিসেবে পরিচিত এই তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারে এখন আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
তদন্তে অসহযোগিতা ও পুলিশের রিপোর্ট
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের একটি মামলাসহ মোট সাতটি এফআইআর (FIR) রয়েছে। ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের কারণে তাঁকে উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশ একটি রিপোর্ট পেশ করে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি পার্থসারথী সেন মন্তব্য করেন, আবেদনকারীকে কেবল ভোটের কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তিনি এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে আসেননি। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী যেখানে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেখানে এই সুরক্ষা আর জারি রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
আদালতে রাজ্য সরকারের সওয়াল
শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর খানকে এই শর্তেই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল যে তিনি পুলিশি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তিনি তদন্তে কোনো রকম সহযোগিতা করছেন না। এমনকি পুলিশ তদন্তের প্রয়োজনে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলে তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ তিনি কার্যত গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। জাহাঙ্গীরের আইনজীবী কিশোর দত্ত এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলের শুনানিতে বিচারপতি পার্থসারথী সেন জাহাঙ্গীরের সব কটি মামলার ক্ষেত্রেই সুরক্ষা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
এক ঝলকে
- ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে দেওয়া সমস্ত আইনি ও অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা তুলে নিল কলকাতা হাইকোর্ট।
- বিচারপতি পার্থসারথী সেনের একক বেঞ্চ মঙ্গলবার স্পষ্ট জানায়, ভোটের জন্য দেওয়া এই সুরক্ষার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
- আদালতের কাছে রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে, জাহাঙ্গীর খান তদন্তে অসহযোগিতা করছেন এবং পুলিশ তাঁকে বাড়িতে খুঁজে পায়নি।
- জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর রয়েছে; সুরক্ষা উঠে যাওয়ায় এবার তাঁকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করতে পারবে পুলিশ।
