তোলাবাজির অভিযোগে এবার পুলিশের জালে বিধাননগরের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট

শিয়ালদহ রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং দক্ষিণ দমদমে তৃণমূল কাউন্সিলর টিংকুর গ্রেফতারির রেশ কাটার আগেই, বিধাননগর পৌর নিগম এলাকায় ফের এক মহাবিস্ফোরণ ঘটল। সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিধাননগর পুর নিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল। শনিবার অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অভিযান চালিয়ে বাগুইআটি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই যেভাবে পুলিশ প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে একে একে প্রভাবশালীদের শ্রীঘরে পুরছে, তাতে সম্রাটের এই গ্রেফতারি বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর সংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
লাগাতার তোলাবাজি ও হুমকির নালিশ, অবশেষে অ্যাকশন
বাগুইআটি থানা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একচ্ছত্র দাপট খাটানো, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় (তোলাবাজি) এবং ভয় দেখানোর একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ছিল। নতুন সরকারের জমানায় পুলিশকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দেওয়া হতেই এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের গতি বাড়ানো হয়। অবশেষে শনিবার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে বাগুইআটি থানার পুলিশ সম্রাটকে পাকড়াও করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজই তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।
ভাঙছে সুজিত বসুর দুর্গ, অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিধাননগর এবং দক্ষিণ দমদম পৌরসভা এলাকা থেকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতারির তালিকা যেভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তা প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরের রক্তচাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এর আগে বিধাননগর পুর নিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বরের সুশোভন মণ্ডল, ৩৪ নম্বরের রঞ্জন পোদ্দার এবং গতকালই দক্ষিণ দমদমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের এমএমআইসি পার্থ ভার্মা ওরফে টিংকু গ্রেফতার হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্রাট বড়ুয়া।
একদিকে যখন ভাটপাড়া ও হালিশহরে দলের ভাঙন রুখতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকার এবং আইনি লড়াই লড়ার কড়া দাওয়াই দিচ্ছেন, ঠিক অন্যদিকে বাগুইআটি পুলিশের এই ‘দাবাং অ্যাকশন’ প্রমাণ করছে যে, নতুন সরকারের জমানায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির কারবারিদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এই মেগা গ্রেফতারির পর বিধাননগর চত্বরে তৃণমূলের পুরোনো সিন্ডিকেট রাজের চাবিকাঠি কার হাতে ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ধৃত সম্রাটকে জেরা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ।
