থানা হামলার সুপরিকল্পিত ছক বানচাল, ফলতাকাণ্ডে এবার ফেঁসে গেলেন কুখ্যাত জাহাঙ্গিরের স্ত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতাকাণ্ডে এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। পুলিশি হেফাজত থেকে কুখ্যাত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত ছক বানচাল করে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় নতুন করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নতুন করে আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে এই থানা হামলার ঘটনায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫ জনে।
থানা ঘেরাও ও হামলা চালানোর গোপন ছক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে মুক্ত করার পুরো পরিকল্পনাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। গত মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে বের হয়েছিল পুলিশ। এর প্রতিবাদে এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে অনুগামীরা বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ শুরু করে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বেই একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ফলতা থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমর্থকদের জড়ো করা হবে এবং সেখান থেকে সংগঠিতভাবে থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে আনা হবে। তবে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বুধবার ফলতায় একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় কোনও রকম গুন্ডামি বা জঙ্গিপনা বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ধারায় নতুন মামলা রুজু হয়। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার হবে এবং দুষ্কৃতীদের কাছে একটি স্পষ্ট কড়া বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা বাকিদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ।
