দড়ি ধরে মারো টান, আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না শেষ পর্যন্ত। আলিপুরদুয়ারে দাপুটে তৃণমূল নেতা মানস রায়কে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। একসময়ের প্রভাবশালী এই যুব নেতার মাথা নীচু করে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। পথচলতি অনেকেই পকেট থেকে ফোন বের করে এই নজিরবিহীন দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ক্যামেরাবন্দী করেন।
স্ত্রীর প্রধান পদের আড়ালে কোটি টাকার দুর্নীতি
অভিযোগের তির কালচিনি ব্লকের মাঝের ডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা তথা আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির তৎকালীন যুব সহ সভাপতি মানস রায়ের দিকে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী বুবুন রায় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তবে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে সামনে রেখে বকলমে সমস্ত ক্ষমতার রাশ ছিল মানস রায়ের হাতেই। পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশের সহযোগিতায় গত পাঁচ বছরে ১০০ দিনের কাজ, মুরগির পোল্ট্রি ফার্মের শেড নির্মাণ, বাগান তৈরি এবং টিউবওয়েল বসানোর মতো জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার ধৃত নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্নীতিমুক্তির আনন্দে মাঝের ডাবরি এলাকার গ্রামবাসীরা শামুকতলা থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানান।
প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার অন্যান্য প্রান্তেও। একই সময়ে মোবাইল টাওয়ার বসানোর নাম করে ঘুষ বা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের বিবেকানন্দ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিক্রম বর্মনকে উত্তরজিতপুর এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক জনপ্রতিনিধি ও নেতার গ্রেপ্তারি জেলার শাসক শিবিরের ওপর বড়সড় ধাক্কা এবং এর ফলে দুর্নীতি দমনে প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
