দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম বিতর্ক, ‘মহৎ উদ্দেশ্যে’র যুক্তি দিয়ে মুখ খুললেন দেবাংশু ভট্টাচার্য! – এবেলা

দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম বিতর্ক, ‘মহৎ উদ্দেশ্যে’র যুক্তি দিয়ে মুখ খুললেন দেবাংশু ভট্টাচার্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে খাট, আলমারি ও তোষক-গদিসমৃদ্ধ ঝাঁ চকচকে বেডরুমের সন্ধান মিলেছে। খাস কলকাতার ইএম বাইপাস লাগোয়া তৃণমূল ভবন থেকে শুরু করে বাঁকুড়ার ইন্দাসের ব্লক কার্যালয়— সর্বত্রই প্রায় গেস্ট হাউজের মতো শোওয়ার ঘরের উপস্থিতি দেখা গেছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন এই ধরনের বিলাসবহুল বেডরুম বা থাকার ব্যবস্থা থাকবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমানসে তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলিং শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে এবার সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রাক্তন ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য।

দলীয় কর্মীদের সুবিধা ও সাশ্রয়ের যুক্তি

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেবাংশু ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম থাকার পেছনে একটি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ রয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে যখন দলের সাধারণ কর্মী বা নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেন, তখন তাঁদের থাকার জন্য যাতে বাড়তি টাকা খরচ করে হোটেল ভাড়া করতে না হয়, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। জেলা অফিসগুলোতে শোওয়ার ঘরের পাশাপাশি স্নানঘর এবং কোনো কোনো জায়গায় রান্নাঘরের ব্যবস্থাও থাকে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, গত সাত বছরে তিনি নিজেও বহু জেলার পার্টি অফিসে থেকেছেন এবং সেখানে রান্না করা খাবার খেয়েছেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত একের পর এক দলীয় কার্যালয়ে অভিযান বা রেইডের পর বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি বেডরুমের উপস্থিতি প্রকাশ্যে আসায় এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক দুর্নীতির অংশ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করলে শাসক দলের ভাবমূর্তিতে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে দেবাংশু ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সাংগঠনিক যুক্তি কেবল রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের জন্যই প্রযোজ্য। স্কুল বা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো অসুস্থতার বিশ্রামের ঘর ছাড়া অন্য কোনো বেডরুম কিংবা আপত্তিকর সামগ্রী পাওয়া যায়, তবে সেটির যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তৃণমূলের এই ব্যাখ্যার ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করা হলেও, জনমানসে এর মিশ্র প্রভাব বজায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *