দাম্পত্যের আড়ালে নিষিদ্ধ প্রেমের হাতছানি, পরকীয়ার নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক কারণ কি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ পথচলায় অনেক পুরুষই নতুন সম্পর্কের মোহে আবিষ্ট হচ্ছেন। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বিবাহিত পুরুষদের পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পেছনে কেবল শারীরিক আকর্ষণ নয়, বরং গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে আসার প্রবণতাই অনেককে এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানসিক শূন্যতা ও একঘেয়েমি
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনে রোমান্সের অভাব এবং প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনযাপন পরকীয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক পুরুষ মনে করেন, তাদের কর্মব্যস্ত জীবনের চাপ বা মানসিক টানাপোড়েন জীবনসঙ্গিনী যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারছেন না। এই মানসিক নিঃসঙ্গতা কাটাতে এবং হারানো রোমাঞ্চ ফিরে পেতে তারা বাইরের সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এছাড়া মধ্য বয়সে পৌঁছে নিজের তারুণ্য ও যোগ্যতা প্রমাণের তাগিদ থেকেও অনেকে নতুন প্রেমে জড়ান।
যোগাযোগের অভাব ও গুরুত্ব পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
দাম্পত্যে সুস্থ কথোপকথনের অভাব এবং নিয়মিত অশান্তি পুরুষদের মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে যখন সঙ্গী বা পরিবারের কাছ থেকে প্রশংসা ও মনোযোগ পাওয়া কমে যায়, তখন অন্য কারও কাছ থেকে পাওয়া সামান্য গুরুত্ব বা প্রশংসা তাদের উৎসাহিত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা মূলত সম্পর্কের ফাঁকগুলো পূরণের একটি চেষ্টা। তবে এটি কেবল বিচ্ছেদের ইঙ্গিত নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেই পুরুষরা এই সমান্তরাল সম্পর্কের স্বাদ নিতে চান।
সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রতিকার
এই ধরনের প্রবণতা পারিবারিক কাঠামোয় আস্থার সংকট তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। গবেষকদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় রাখা এবং খোলামেলা আলোচনা এই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরকীয়ার হার কমাতে দাম্পত্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।
এক ঝলকে
- দাম্পত্যের একঘেয়েমি ও রোমাঞ্চের অভাব পুরুষদের পরকীয়ায় আগ্রহী করে তুলছে।
- মানসিক নিঃসঙ্গতা এবং সঙ্গীর সাথে যথাযথ যোগাযোগের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময়ে তারুণ্য প্রমাণের আকাঙ্ক্ষা বা ‘মিড-লাইফ ক্রাইসিস’ এই প্রবণতা বাড়ায়।
- সুস্থ আলোচনা এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের মাধ্যমেই এই পরকীয়ার ঝোঁক কমানো সম্ভব।
