দিদির অন্ধ স্নেহেই কি ডুবল তৃণমূল, ভরাডুবির পর বিস্ফোরক পার্থ – এবেলা

দিদির অন্ধ স্নেহেই কি ডুবল তৃণমূল, ভরাডুবির পর বিস্ফোরক পার্থ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আগুন প্রকাশ্যে চলে এলো। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের ছায়াসঙ্গী এবং একদা দলের অন্যতম শীর্ষ নীতি-নির্ধারক পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন নেত্রীর বিরুদ্ধে। দলের এই ভরাডুবির জন্য মমতার সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং পরিবারতান্ত্রিক পক্ষপাতিত্ব বা ‘অন্ধ স্নেহ’-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও, কার ইশারায় বা কার জন্য মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তা অকপটে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ রাজনৈতিক মহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

উত্তরাধিকার সংকট এবং দল গড়ার কারিগরদের বিদায়

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সমালোচনার মূল তির ছিল দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বা উত্তরাধিকার নির্বাচনের ভুল কৌশলের দিকে। তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা স্টালিন কিংবা মহারাষ্ট্রের শিবসেনার উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চান, আঞ্চলিক দল হলেও তারা সঠিক সময়ে যোগ্য উত্তরাধিকারী বেছে নিয়েছে। তীব্র আক্ষেপের সুরে পার্থ জানান, তাড়াতাড়ি দিদির পরিবর্তে তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী খোঁজা উচিত ছিল। মমতার বিকল্প মমতা নিজেই, তাঁর কোনো যোগ্য বিকল্প এখনও তৃণমূল তৈরি করতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট জানান, একজনের জন্য আজ গোটা দলটা ফাঁকা হয়ে গেছে এবং এখানেই দিদির অন্ধ স্নেহ কাজ করেছে, যা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতাকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ধরন ও দক্ষিণী কায়দায় গাড়ির ওপর উঠে হাত নাড়ানোকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অন্য কেউ দিদি হওয়ার অভিনয় করলে তা হাস্যকর দেখায়।

পুরনো দুর্গের পতন এবং প্রাতিষ্ঠানিক আত্মহত্যা

দলের বর্তমান ভোট কুশলী এবং অনভিজ্ঞদের অতি-সক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে যেভাবে অনভিজ্ঞদের হাতে রাশ তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাকে দলের ‘প্রাতিষ্ঠানিক আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দল তাঁর অবদানকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। ফলে যে সব জেলা একসময় তিনি নিজে দেখতাম, আজ সেগুলো পুরোপুরি শুয়ে পড়েছে। ঝাড়গ্রাম আজ শূন্য, নদীয়া নেমে এসেছে ৩-এ, কোচবিহারেও দল কার্যত সাফ। এই ধ্বংসের ধারা মুকুল রায়কে দিয়ে শুরু হয়েছিল, আর তাঁর আইসোলেশনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো বলে দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের এই শীর্ষ স্তরের কোন্দল এবং ভাঙন আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্বকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *