দিদি টাকা দিয়ে দিলে এমন হত না! টাকার লালসায় নৃশংসতার চরম সীমায়, অভিযুক্তের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানীর উচ্চপদস্থ আমলা-কন্যার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর মোড় পেয়েছে পুলিশ। ধৃত রাহুল মীনা জেরার মুখে বারবার বয়ান বদলালেও অবশেষে খুনের কারণ হিসেবে টাকা ও চুরির উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছে। ধৃতের দাবি অনুযায়ী, মূলত চুরির উদ্দেশ্যেই সে বাড়িতে প্রবেশ করেছিল এবং লুটপাটে বাধা দেওয়াতেই ঘটনার মোড় হত্যাকাণ্ডের দিকে ঘুরে যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বয়ান খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
আর্থিক বিবাদ এবং বর্বরোচিত হামলা
জিজ্ঞাসাবাদে রাহুল পুলিশকে জানিয়েছে, “দিদি (নিহত তরুণী) টাকা দিয়ে দিলে এমনটা হতো না।” তার দাবি অনুযায়ী, টাকা নিতে গেলে তরুণী চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই পাশে থাকা একটি ল্যাম্প দিয়ে তরুণীর মাথায় সজোরে আঘাত করে রাহুল, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপরেই অভিযুক্ত যুবক নৃশংসতার চরম সীমায় গিয়ে ওই অচেতন অবস্থাতেই তরুণীর গলায় ইলেকট্রিক চার্জিং কেবল পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।
ধর্ষণ ও নৃশংসতার চরম সীমা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ল্যাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করার ফলে তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত রাহুল তাঁকে ধর্ষণ করে। পুলিশি রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ঘটনার সময় তরুণী সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি কেবল লুঠতরাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং যৌন নিগ্রহ ও খুনের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- দিল্লির আমলা-কন্যা খুনের ঘটনায় ধৃত রাহুল মীনা অপরাধ কবুল করে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের কথা জানিয়েছে।
- টাকা দিতে অস্বীকার করে চিৎকার শুরু করলে একটি ল্যাম্প দিয়ে তরুণীর মাথায় আঘাত করে অভিযুক্ত।
- রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তরুণীকে ধর্ষণ এবং ইলেকট্রিক ক্যাবল দিয়ে শ্বাসরোধ করার অভিযোগ উঠেছে।
- বয়ান বারবার বদলানোয় অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা ও খুনের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
