দিল্লিতে ‘গ্যাস চেম্বার’ বিমান, কলকাতায় ১০ ঘণ্টা নরকযন্ত্রণা! বারবার কেন কাঠগড়ায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে বিমান পরিষেবায় চরম গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার ছবি ফের সামনে এল। সম্প্রতি দিল্লি থেকে পুণেগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাত্রীদের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ভেতরেই আটকে থাকতে হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা বিমানবন্দরে চেন্নাইগামী আরেকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ধরে চরম হয়রানির শিকার হন। একের পর এক এই ঘটনার জেরে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিমান সংস্থার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
দমবন্ধ পরিস্থিতি ও তথ্য বিভ্রাট
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে পুণেগামী আইএক্স-১২৩০ উড়ানটি ছাড়ার কথা ছিল। বোর্ডিং সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে কার্যত এক দমবন্ধ ‘গ্যাস চেম্বার’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর চেয়েও বড় বিষয়, চরম দুর্ভোগের সময়েও বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট বা সঠিক তথ্য মেলেনি। এই বিলম্বের চেইন রিঅ্যাকশনে পরবর্তীতে পুণে-ইন্দোর এবং ইন্দোর-দিল্লি উড়ানগুলোও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
কলকাতায় ১০ ঘণ্টার সীমাহীন ভোগান্তি
একই দিনে কলকাতা বিমানবন্দরে চেন্নাইগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইটেও চরম বিপর্যয় দেখা দেয়। সকাল সাড়ে ৬টার বিমান দফায় দফায় সময় পরিবর্তন করে বিকেল পৌনে ৪টায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীদের কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি, বরং বারবার গেট পরিবর্তন করে বিভ্রান্ত করা হয়। বিমানবন্দরে অপেক্ষারত অসুস্থ রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রাথমিকভাবে খাবার বা জলের ন্যূনতম ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারণ ও দূরপাল্লার প্রভাব
মূলত উড়ানের আগ মুহূর্তে আকস্মিক কারিগরি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়া এবং পরবর্তী ব্যাক-আপ প্ল্যান বা বিকল্প বিমানের অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি গ্রাউন্ড স্টাফদের অপেশাদার আচরণ ও সঠিক সময়ে তথ্য আদান-প্রদান না করার মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একের পর এক বিমানের এই শিডিউল বিপর্যয় ভারতের বিমান পরিষেবা খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এক ঝলকে
- দিল্লি ও কলকাতায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুটি ফ্লাইটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
- দিল্লির বিমানে এসি বন্ধ থাকায় সাড়ে তিন ঘণ্টা গরমে আটকে থেকে যাত্রীদের দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
- কলকাতায় চেন্নাইগামী বিমানের সময় চারবার পরিবর্তন করে যাত্রীদের দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়।
- বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং সঠিক সময়ে তথ্য না দেওয়ার কারণে অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম হয়রানিতে পড়েন।
