দিল্লির পর ভোপাল: কৃষকদের আন্দোলনে শামিল জেন-জি প্রজন্ম, ঘেরাওয়ের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানী দিল্লির মতোই এবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালে বড়সড় কৃষক আন্দোলনের আঁচ। খাবার, জামাকাপড় এবং বিছানাপত্র সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় রসদ সঙ্গে নিয়ে ভোপাল অভিমুখে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন দুই হাজারের বেশি কৃষক। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মঙ্গলবার রাতেই ভোপালের সীমান্তে প্রবেশ করেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সরকারি বাসভবন ঘেরাও করা।
আন্দোলনের নেপথ্য কারণ মূলত মুগ ডাল কেনা, সার বন্টন এবং জটিল ‘ই-টোকেন’ প্রথা বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। বর্তমানে সাভারকর ব্রিজের কাছে অস্থায়ী আস্তানা গড়ে অবস্থান করছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। তাঁদের প্রধান দাবি, উৎপাদিত মুগ ডালের ১০০ শতাংশই সরকারকে কিনতে হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নীতি অনুযায়ী মাত্র ২৫ শতাংশ ফসল সরকারিভাবে কেনার নিয়ম রয়েছে। এ বছর রাজ্যে রেকর্ড ২০.১৬ লাখ মেট্রিক টন মুগ উৎপাদিত হলেও, সরকার মাত্র ৪.৫৪ লাখ মেট্রিক টন কেনার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়েই কৃষকদের খোলা বাজারে প্রতি কুইন্টাল ফসল ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, যেখানে সরকারি দাম ৮ হাজার ৬৬৮ টাকা। এতে প্রতি কুইন্টালে তাঁদের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বড় ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি, সার ও ফসল বিক্রির জটিল ই-টোকেন ব্যবস্থারও সংস্কার দাবি করেছেন তাঁরা।
আলোচনা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ মঙ্গলবার রাতে মধ্যপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী আইদাল সিং কাসানার সঙ্গে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার প্রথম দফার বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। এর পরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে চিঠি পাঠান রাজ্য কৃষিমন্ত্রী। অতিরিক্ত ফসল কেনার অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। অন্যদিকে, গোটা পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি বিশেষ মন্ত্রী কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিরাপত্তা ও জেন-জির উপস্থিতি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করে এলাকাটিকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নর্মদাপুরম থেকে পায়ে হেঁটে ভোপালে পৌঁছানো কৃষকেরা রাস্তায় রান্না করে এক সপ্তাহের রসদ নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তবে এবারের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তরুণ ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমর্থকরাও। পাশাপাশি, দিল্লিতে ছাত্র, যুব ও কৃষকদের নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পরিকল্পনাও চলছে।
