দিল্লি যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ, কর্ণাটকের রাজনীতিতেই অনড় সিদ্দারামাইয়া – এবেলা

দিল্লি যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ, কর্ণাটকের রাজনীতিতেই অনড় সিদ্দারামাইয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্ণাটক কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান নেতা সিদ্দারামাইয়া। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশ মেনেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন। রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকায় তাঁর বিশেষ সচিব প্রভু শঙ্করের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সিদ্দারামাইয়া। এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেও এখনই সক্রিয় রাজনীতি বা কর্ণাটকের মাটি থেকে যে তিনি সরছেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।

জাতীয় রাজনীতিতে অনিচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরপরই সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল। তিনি নিজেই জানান, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তিনি বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কর্ণাটকের জনগণ তাঁকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং মেয়াদের বাকি আরও ২ বছর তিনি রাজ্যের রাজনীতিতেই মনোনিবেশ করতে চান। জাতীয় রাজনীতির পরিমণ্ডলে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই এবং কর্ণাটকের রাজনৈতিক অঙ্গনেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব

কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণেই কর্ণাটকে এই বড়সড় নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে, তাই নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং সরকার গঠনে কোনও সাংবিধানিক জটিলতা নেই। এই পদত্যাগের ফলে কর্ণাটক কংগ্রেসের অন্দরে ডিকে শিবকুমারের মতো হেভিওয়েট নেতাদের গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনই সিদ্দারামাইয়া রাজ্যে থেকে যাওয়ায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় থাকবে। ক্ষমতার এই রদবদল আগামী দিনে কর্ণাটকের প্রশাসনিক ও দলীয় সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *