দুঃস্বপ্নের সাগরে ৫৬২ ভারতীয় নাবিক, হরমুজ প্রণালীতে কাটল দীর্ঘ ১০৭ দিন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ ১০৭ দিন ধরে আটকে রয়েছেন ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক। রবিবার ভারতের জাহাজ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। অবরুদ্ধ এই সমুদ্রসীমায় ভারতীয় পতাকাবাহী অন্তত ১৩টি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়ায় নাবিকদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আটকে পড়ার নেপথ্য কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। জাহাজ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা ৫৬২ জন নাবিকের মধ্যে ৩২৯ জন হরমুজের পশ্চিম অংশে এবং বাকি ২৩৩ জন হরমুজের পূর্ব দিকে অর্থাৎ ওমান উপসাগরে আটকা পড়েছেন। কদিন আগে ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এরপর সম্প্রতি এমটি সেলেস্টিয়াল নামের একটি বাণিজ্যতরীতে নিশান্ত উরথানাথান নামের আরও এক ভারতীয় নাবিক অসুস্থ হয়ে মারা যান। বর্তমানে জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দরে রয়েছে এবং ওই নাবিকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে বিদেশ মন্ত্রক ও ওমানের ভারতীয় দূতাবাস যৌথভাবে কাজ করছে।
বাণিজ্যিক প্রভাব ও শান্তির ইঙ্গিত
দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য ও সামুদ্রিক পণ্য পরিবহণে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হতে চলেছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং মারণ যুদ্ধের অবসান ঘটবে। এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের ওপরই এখন নির্ভর করছে আটকে থাকা শত শত নাবিকের ঘরে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি পুনরুদ্ধার।
