দুবেলা পেটের ভাত জুটছে না! ৬ বছরে আরও ২.৭ কোটি মানুষ কাঙাল, ধ্বংসের মুখে পাকিস্তান – এবেলা

দুবেলা পেটের ভাত জুটছে না! ৬ বছরে আরও ২.৭ কোটি মানুষ কাঙাল, ধ্বংসের মুখে পাকিস্তান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইসলামাবাদ: চরম আর্থিক অনটন আর খাদ্যসংকটে ধুঁকতে ধুঁকতে এবার কার্যত ভিখারিতে পরিণত হওয়ার জোগাড় প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের। বিগত ৬ বছরে সেদেশে দারিদ্র্যের হার একলাফে ৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। যার জেরে বর্তমানে পাকিস্তানের মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটিতে! সম্প্রতি পাক সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা ‘পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬’-এর এক অফিসিয়াল রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।

সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে পাকিস্তানে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, বর্তমানে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮.৯ শতাংশে। এর অর্থ হলো, গত মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানের আরও ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে গেছেন। দুবেলা পেটভরে খাওয়া কিংবা বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাটুকু মেটানোর ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন এই বিপুল সংখ্যক মানুষ।

গ্রামাঞ্চলে হাহাকার, আকাশছোঁয়া বৈষম্য:

দেশের মানুষের আয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য স্পষ্ট করে দিয়েছে গিনি সূচক (Gini Index), যা ২৮.৪ থেকে বেড়ে একলাফে ৩২.৭-এ পৌঁছেছে। শহরের তুলনায় পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও করুণ। বর্তমানে পাকিস্তানের শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ১৭.৪ শতাংশ হলেও, গ্রামাঞ্চলে তা ৩৬.২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ গ্রামের সিংহভাগ মানুষই এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

কী কারণে এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা?

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক বছরে করোনা মহামারির দাপট, বিধ্বংসী বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় পাকিস্তানের অর্থনীতিকে কোমর ভেঙে দিয়েছিল। এর ওপর লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি (জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম), পাকিস্তানি টাকার দাম তলানিতে ঠেকে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) কঠিন শর্ত মানতে গিয়ে সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতিই এই চরম বিপর্যয়ের মূল কারণ। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এই দুর্ভিক্ষ ও দেউলিয়া দশা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *