দুর্গাপুজো ২০২৬: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব ক্লাবে ক্লাবে, বড় পুজোর দায়িত্বে এবার বিজেপি নেতৃত্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো কমিটিগুলিতে। গত এপ্রিলে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটিই রাজ্যের প্রথম দুর্গাপুজো। আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উৎসবে একাধিক বড় বড় মেগা পুজো কমিটির মূল দায়িত্বে এসেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
সবচেয়ে বড় রদবদল ঘটেছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব ও সুরুচি সংঘে। এতদিন শ্রীভূমির দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। অন্যদিকে, সুরুচি সংঘের দায়িত্ব প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে গেছে বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের কাছে। একইভাবে, পাটুলির কেন্দুয়া শান্তি সংঘে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের জায়গায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সর্ব্বরী মুখার্জি এবং বরানগরেও প্রাক্তন টিএমসি নেতার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
তবে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে রাজডাঙ্গা নবোদয় সংঘ। বিচারাধীন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে যুক্ত এই কমিটিটি এবার সাধারণ দর্শনার্থীদের পরিবর্তে শুধু ক্লাব সদস্যদের মধ্যেই পুজো সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে তাদের এবারের থিম ‘শোধন’।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজে কোনো পুজো কমিটির প্রধান পদে থাকবেন না। তাঁর মতে, দুর্গাপুজো জনগণের উৎসব, এটিকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র বানানো অনুচিত।
রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও উৎসবের আমেজ ও বাজেটে কোনো কাটছাঁট হচ্ছে না। সন্তোষপুর লেক পল্লীর মতো জনপ্রিয় পুজো কমিটিগুলো প্রায় ১ কোটি টাকার বাজেটে তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখেই পুজোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, রাজনৈতিক মুখ বদলালেও কলকাতার মেগা পুজোর মেজাজ ও জাঁকজমকে কোনো খামতি থাকবে না।
