দুর্নীতির শ্বেতপত্র ও লক্ষ্মীর বদলে অন্নপূর্ণা, বিধানসভায় কড়া বার্তা অর্থমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলের যাবতীয় আর্থিক বেনিয়ম প্রকাশ্যে আনতে এবার শ্বেতপত্র প্রকাশের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ) রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের দুর্নীতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করবে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই নতুন সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের আর্থিক অস্বচ্ছতা দূর হয়ে প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় অনুদান ও প্রশাসনিক সংস্কার
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে যে বাধা তৈরি করা হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি বিধানসভাকে আশ্বস্ত করেন যে, কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা গেলে কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া সম্ভব। কেন্দ্রের টাকা বিদেশের নয় বরং ভারতেরই টাকা এবং পশ্চিমবঙ্গ দেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মন্তব্য করে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। এর ফলে রাজ্যের থমকে থাকা পরিকাঠামোগত কাজগুলি নতুন করে গতি পাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা এবং কর্মচারীদের ডিএ
বিধানসভায় পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মূল পার্থক্যও তুলে ধরেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটির সুবিধা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই পেতেন। অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কেবল প্রকৃত অভাবগ্রস্তরাই পাবেন, যা সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক ও লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনেও সদর্থক বার্তা দিয়েছেন তিনি। পূর্বতন সরকার মাত্র ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়ায় যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে আগামী মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
