দেওয়াল থেকে সরলো নিজের ছবি, খালি করলেন ঘর! বিধানসভা ছাড়ার সময় আবেগপ্রবণ বিদায়ী স্পিকার বিমান

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে মঙ্গলবার বিধানসভায় এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সরকারি আধিকারিক ও কর্মীরা। টানা তিন মেয়াদের স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর দপ্তরের দায়িত্ব ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। সোমবারের নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর নৈতিক অবস্থান থেকেই নিজের কক্ষ খালি করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
দপ্তর ছাড়লেও বিধানসভায় থাকছেন বিমান
মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই বিধানসভায় উপস্থিত হন বিদায়ী স্পিকার। সেখানে উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। এরপর নিজের দপ্তরে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র এবং ছবি গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। বিধানসভা চত্বর ছাড়ার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভোটের ময়দানে হার-জিত আছেই। তবে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসব।” তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্পিকারের চেয়ার ছাড়লেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে তিনি অবিচল।
পরিবর্তিত ভূমিকায় বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক
২০১১ সাল থেকে টানা বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের বিপর্যয়ের ঝড়েও নিজের আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১—পরপর তিনবার তিনি স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ায় চতুর্থবারের মতো তাঁর স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বিধানসভার অন্দরে বিমানের স্থান পরিবর্তন হতে চলেছে। শাসক দলের প্রভাবশালী স্পিকার থেকে এবার তাঁকে বসতে হবে বিরোধী আসনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে বিরোধী বেঞ্চে বসে বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। মূলত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করতেই তিনি দ্রুত দপ্তর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
